(সুমিত রায়)
নিরাপত্তাপ্রধানগণ এতদিন ধরে কিসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন?
ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ এবং সংসদের ভেতরের হত্যাকাণ্ডটি এমনই একটি আক্রমণ যার জন্য যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তাপ্রধানরা অনেক দিন ধরেই প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। জঙ্গিবাদকে কেবল হত্যা এবং অঙ্গহানির জন্যই হয় না। এর সাথে ভীতি তৈরি করার এবং একটি বিশৃঙ্খল অবস্থার ধারণা সৃষ্টি করারও উদ্দেশ্য থাকে যা একটি শহর বা জাতির ভিতকে নাড়িয়ে দেয়। আর সাম্প্রতিক লন্ডন আক্রমণের এই আক্রমণকারীটি তাই করতে চেয়েছিল, কিন্তু যতটা পারা যায় লো-টেক বা নিম্নপ্রযুক্তি ব্যবহার করে।
একটা সময় ছিল যখন টেরোরিজম বা জঙ্গিবাদ বলতে বিশাল আকারে বোমা বিষ্ফোরণ এবং মাসের পর মাস জুড়ে পরিকল্পনাকে বোঝাত। কিন্তু টেরোরিজমকে এভাবে ভাবার দিন শেষ হয়ে গেছে। পাশ্চাত্যের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলো- বিশেষ করে MI5 এবং এর পার্টনার এজেন্সিগুলো ওইরকম পরিকল্পনাগুলো ধরে ফেলতে এবং তা নস্যাত করে দিতে এখন অনেক বেশি পারদর্শী।
এরকম আক্রমণকে পরিকল্পনা করতে যত বেশি সময় লাগবে, আক্রমণটিতে তত বেশি লোক যুক্ত হবে, সিকিউরিটি সারভিসগুলোর জন্য পরিকল্পনাটি ধরে ফেলাও তত বেশি সুবিধা হবে। ২০০৫ সালের আত্মঘাতি হামলার সময় থেকে পুলিসরা বারবার করে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নিয়েছে কিভাবে পুনরায় এরকম আক্রমণ হলে তা ঠেকানো যায়। এদেরকে ট্রেইন করার বা প্রশিক্ষণ দেবার ধরণে বারবার পরিবর্তনও আনা হয়, বিশেষ করে ২০০৮ সালে মুম্বাইতে ম্যারডিং এটাক এবং প্যারিসে, নিস এবং অন্যান্য স্থানে আক্রমণের পর। এই প্রশিক্ষণের একটি অংশ ছিল, কিভাবে আক্রমণকারীকে ডিল করতে হবে, আবার একটা অংশ ছিল কিভাবে একটি শহরকে চালিত হতে, বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করা যায়।
আর তাই প্রাইম মিনিস্টার এটা বলতে সক্ষম হয়েছেন যে, লন্ডনবাসী সবকিছু আগের মত সাধারণভাবেই সব কিছু চালিয়ে যাবে।
ইলেক্ট্রনিক ট্রেইল
এই আক্রমণটির সূচনা হয়েছিল ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে মানুষের উপর ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চাপিয়ে দেবার মধ্য দিয়ে। এটা জঙ্গি আক্রমণের একটি পদ্ধতি যা আল কায়দা ইন এরাবিয়ান পেনিনসুলা (AQAP) সহ সঘোষিত ইসলামিক স্টেট ব্যবহার করে আসছে। এই দুটো জঙ্গি প্রতিষ্ঠান থেকেই ইংরেজি ভাষাভাষী ম্যাগাজিন থেকে এই পদ্ধতিকে প্রমোট করা হয়েছে।
আর ওল্ড বেইলির অগণিত কাউন্টার টেরোরিজম ট্রায়ালগুলো থেকে আমার কাছে শ্রুত তথ্যপ্রমাণ (heard evidence) আছে যে, ব্রিটিশ সন্দেহভাজনদের কাছে এইসব তথ্য রয়েছে।
কেন এই পদ্ধতিকে পছন্দ করা হল?
কারণ এটা খুব সরল এবং এটা ঘটবার পূর্বে এটি সনাক্ত করা অনেকটাই অসম্ভব।
আমার গণনা অনুসারে, ২০১৩ থেকে চলে আসা ১৩টি ব্যর্থ জঙ্গি হামলার প্রত্যেকটি এই আক্রমণকারীর পদ্ধতিটির সাথেই মিলে যায়। হয় সেগুলোতে একটি যানবাহন নিয়ে আক্রমণ করা হয়, অথবা কোন ধারালো অস্ত্র নিয়ে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপর আক্রমণ করা। ২০১৩ সালে ফুসিলিয়ের লি রিগবিকে যে দুজন ব্যক্তি হত্যা করেন তারা ঠিক কাঁধেই ছুড়িকাঘাত করেছিল এবং এরপর পালিয়ে গিয়েছিল। এরকম লক্ষ্য নিয়ে আগানো অন্যদেরকে তাদের পরিকল্পনা কার্যকরী হবার আগেই থামিয়ে দেয়া হয়।
তাহলে এই ঘটনাটি কেন ঘটল?
সিকিউরিটি সারভিস যে কিছু এড়িয়ে গেছে তা এখনই বলা যাবে না। আমরা জানিনা যে আক্রমণকারীরা নিরাপত্তাবাহিনীর রাডারের বাইরে ছিল কি ছিল না। পুলিস এখনও তাদের নাম বলেনি, কেবল বলেছে, “এটা আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ দ্বারা উৎসাহিত”। যদি সে পুলিসের রাডারেও থেকে থাকে, তাহলেও কিন্তু আমরা এটা জানিনা যে, সে তিনি এমন কিছু বলেছেন বা করেছেন নাকি যার ফলে বলা যায় যে সে আসলেই একটা থ্রেট ছিল।
সুতরাং এই সংকটকালীন সময়, পুলিস এখন বুঝতে চেষ্টা করবে এই আক্রমণকারী একাই ছিল, নাকি একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের হয়ে কাজ করেছে। একই মনের আরও অনেক লোক আছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে এরাও এই পরিকল্পনার অংশ। যতক্ষণ না পর্যন্ত সকল সাম্ভাব্য তদন্ত শেষ করে ফেলছেন ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই পরিকল্পনায় অন্য কারও থাকার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেবেন না।
আজ রাতে, কর্মকর্তাগণ আক্রমণকারীর গাড়িতে ছেড়ে যাওয়া ইলেক্ট্রনিক ট্রেইলগুলোকে বিশ্লেষণ করবেন, যেহেতু এটি শহরের অটোমেটিক প্লেট রিকগনিশন ক্যামেরা দিয়েই পাস করে গেছে। তারা সিসিটিভি এবং অন্যান্য জায়গা থেকে সকল ক্লু বের করে আনবে, বিশেষ করে আক্রমণকারীর স্টার্টিং পয়েন্ট এবং অন্যদের সাথে শেষ ফিজিকাল মিটিং পয়েন্টগুলো থেকে। বিশেষজ্ঞরা তার মোবাইল ফোনের মুভমেন্টকে ট্রায়াংগুলেট করবেন এবং দেখবেন কখন এবং কার সাথে আক্রমণকারী কথা বলেছেন। সে যদি একই জায়গায় বারবার যায় তাহলে সেখান থেকে একটা ভাল ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে যা আগের আক্রমণগুলোতে পাওয়া গিয়েছিল। MI5 এবং GCHQ এর ভেতরের বিশ্লেষকগণ বিভিন্ন ইন্ট্রুসিভ টেকনোলজি ব্যবহার করে আক্রমণকারীর অনলাইন একাউন্টগুলো হ্যাক করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য বের করতে পারেন যা সম্পর্কে আমরা কখনই জানতে পারব না। এছাড়া ডিটেক্টিভরা আশা করবেন, কিছু ভাল আগের পুলিসিং পদ্ধতি থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া যাবে। এগুলোর মধ্যে এন্টি-টেরোরিস্ট হটলাইনে কোন এনোনিমাস কল বা কোন লোকাল অফিসারকে দেয়া আক্রমণকারীর প্রতিবেশীর নিরব বয়ানও থাকতে পারে।
তদন্তকারীদের হাতে অনেক দীর্ঘ সময় রয়েছে। রাজধানীর বাইরে মেট্রোপলিটান পুলিসও এবিষয়ে কাজ করতে পারে।
শহরের রাস্তাগুলোতে আরও বেশি অস্ত্রধারী পুলিস থাকবে, সেই সাথে জনগণকে নিশ্চিত করতে আরও বেশি বিট পেট্রল যুক্ত হবে (টহলদারী পুলিস)। সেই সাথে সকলের দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি এবং হেট-ক্রাইম ব্যাকলাশের জন্য নজরদারি আরও বৃদ্ধি করতে হবে।
আরেকটি চূড়ান্ত প্রশ্ন রয়েছে। ওয়েস্টমিনস্টার প্যালেসের চারপাশে একটি স্টিলের রিং আছে কিন্তু আক্রমণকারী তবুও নিউ প্যালেস ইয়ার্ডের গেট দিয়ে (যা বিগ বেনের নিচেই অবস্থিত) পার্লামেন্ট গ্রাউন্ডে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। পার্লামেন্ট গ্রাউন্ডের প্রবেশপথ অস্ত্রবাহী রক্ষীদের দ্বারা সুরক্ষিত হয়, কিন্তু পার্লামেন্টের অন্যান্য অংশে সেরকম সুরক্ষাব্যবস্থা নেই। প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রবেশপথটি সঠিকভাবে রক্ষা করা হয়েছিল কিনা, কিন্তু আক্রমণের পরিকল্পনার প্রকৃতি দেখে মনে হয় না এটা তাকে চেষ্টা করা থেকে আটকাতে পারত।
ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ এবং সংসদের ভেতরের হত্যাকাণ্ডটি এমনই একটি আক্রমণ যার জন্য যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তাপ্রধানরা অনেক দিন ধরেই প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। জঙ্গিবাদকে কেবল হত্যা এবং অঙ্গহানির জন্যই হয় না। এর সাথে ভীতি তৈরি করার এবং একটি বিশৃঙ্খল অবস্থার ধারণা সৃষ্টি করারও উদ্দেশ্য থাকে যা একটি শহর বা জাতির ভিতকে নাড়িয়ে দেয়। আর সাম্প্রতিক লন্ডন আক্রমণের এই আক্রমণকারীটি তাই করতে চেয়েছিল, কিন্তু যতটা পারা যায় লো-টেক বা নিম্নপ্রযুক্তি ব্যবহার করে।
একটা সময় ছিল যখন টেরোরিজম বা জঙ্গিবাদ বলতে বিশাল আকারে বোমা বিষ্ফোরণ এবং মাসের পর মাস জুড়ে পরিকল্পনাকে বোঝাত। কিন্তু টেরোরিজমকে এভাবে ভাবার দিন শেষ হয়ে গেছে। পাশ্চাত্যের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলো- বিশেষ করে MI5 এবং এর পার্টনার এজেন্সিগুলো ওইরকম পরিকল্পনাগুলো ধরে ফেলতে এবং তা নস্যাত করে দিতে এখন অনেক বেশি পারদর্শী।
এরকম আক্রমণকে পরিকল্পনা করতে যত বেশি সময় লাগবে, আক্রমণটিতে তত বেশি লোক যুক্ত হবে, সিকিউরিটি সারভিসগুলোর জন্য পরিকল্পনাটি ধরে ফেলাও তত বেশি সুবিধা হবে। ২০০৫ সালের আত্মঘাতি হামলার সময় থেকে পুলিসরা বারবার করে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নিয়েছে কিভাবে পুনরায় এরকম আক্রমণ হলে তা ঠেকানো যায়। এদেরকে ট্রেইন করার বা প্রশিক্ষণ দেবার ধরণে বারবার পরিবর্তনও আনা হয়, বিশেষ করে ২০০৮ সালে মুম্বাইতে ম্যারডিং এটাক এবং প্যারিসে, নিস এবং অন্যান্য স্থানে আক্রমণের পর। এই প্রশিক্ষণের একটি অংশ ছিল, কিভাবে আক্রমণকারীকে ডিল করতে হবে, আবার একটা অংশ ছিল কিভাবে একটি শহরকে চালিত হতে, বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করা যায়।
আর তাই প্রাইম মিনিস্টার এটা বলতে সক্ষম হয়েছেন যে, লন্ডনবাসী সবকিছু আগের মত সাধারণভাবেই সব কিছু চালিয়ে যাবে।
ইলেক্ট্রনিক ট্রেইল
এই আক্রমণটির সূচনা হয়েছিল ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজে মানুষের উপর ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চাপিয়ে দেবার মধ্য দিয়ে। এটা জঙ্গি আক্রমণের একটি পদ্ধতি যা আল কায়দা ইন এরাবিয়ান পেনিনসুলা (AQAP) সহ সঘোষিত ইসলামিক স্টেট ব্যবহার করে আসছে। এই দুটো জঙ্গি প্রতিষ্ঠান থেকেই ইংরেজি ভাষাভাষী ম্যাগাজিন থেকে এই পদ্ধতিকে প্রমোট করা হয়েছে।
আর ওল্ড বেইলির অগণিত কাউন্টার টেরোরিজম ট্রায়ালগুলো থেকে আমার কাছে শ্রুত তথ্যপ্রমাণ (heard evidence) আছে যে, ব্রিটিশ সন্দেহভাজনদের কাছে এইসব তথ্য রয়েছে।
কেন এই পদ্ধতিকে পছন্দ করা হল?
কারণ এটা খুব সরল এবং এটা ঘটবার পূর্বে এটি সনাক্ত করা অনেকটাই অসম্ভব।
আমার গণনা অনুসারে, ২০১৩ থেকে চলে আসা ১৩টি ব্যর্থ জঙ্গি হামলার প্রত্যেকটি এই আক্রমণকারীর পদ্ধতিটির সাথেই মিলে যায়। হয় সেগুলোতে একটি যানবাহন নিয়ে আক্রমণ করা হয়, অথবা কোন ধারালো অস্ত্র নিয়ে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপর আক্রমণ করা। ২০১৩ সালে ফুসিলিয়ের লি রিগবিকে যে দুজন ব্যক্তি হত্যা করেন তারা ঠিক কাঁধেই ছুড়িকাঘাত করেছিল এবং এরপর পালিয়ে গিয়েছিল। এরকম লক্ষ্য নিয়ে আগানো অন্যদেরকে তাদের পরিকল্পনা কার্যকরী হবার আগেই থামিয়ে দেয়া হয়।
তাহলে এই ঘটনাটি কেন ঘটল?
সিকিউরিটি সারভিস যে কিছু এড়িয়ে গেছে তা এখনই বলা যাবে না। আমরা জানিনা যে আক্রমণকারীরা নিরাপত্তাবাহিনীর রাডারের বাইরে ছিল কি ছিল না। পুলিস এখনও তাদের নাম বলেনি, কেবল বলেছে, “এটা আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ দ্বারা উৎসাহিত”। যদি সে পুলিসের রাডারেও থেকে থাকে, তাহলেও কিন্তু আমরা এটা জানিনা যে, সে তিনি এমন কিছু বলেছেন বা করেছেন নাকি যার ফলে বলা যায় যে সে আসলেই একটা থ্রেট ছিল।
সুতরাং এই সংকটকালীন সময়, পুলিস এখন বুঝতে চেষ্টা করবে এই আক্রমণকারী একাই ছিল, নাকি একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের হয়ে কাজ করেছে। একই মনের আরও অনেক লোক আছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে এরাও এই পরিকল্পনার অংশ। যতক্ষণ না পর্যন্ত সকল সাম্ভাব্য তদন্ত শেষ করে ফেলছেন ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই পরিকল্পনায় অন্য কারও থাকার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেবেন না।
আজ রাতে, কর্মকর্তাগণ আক্রমণকারীর গাড়িতে ছেড়ে যাওয়া ইলেক্ট্রনিক ট্রেইলগুলোকে বিশ্লেষণ করবেন, যেহেতু এটি শহরের অটোমেটিক প্লেট রিকগনিশন ক্যামেরা দিয়েই পাস করে গেছে। তারা সিসিটিভি এবং অন্যান্য জায়গা থেকে সকল ক্লু বের করে আনবে, বিশেষ করে আক্রমণকারীর স্টার্টিং পয়েন্ট এবং অন্যদের সাথে শেষ ফিজিকাল মিটিং পয়েন্টগুলো থেকে। বিশেষজ্ঞরা তার মোবাইল ফোনের মুভমেন্টকে ট্রায়াংগুলেট করবেন এবং দেখবেন কখন এবং কার সাথে আক্রমণকারী কথা বলেছেন। সে যদি একই জায়গায় বারবার যায় তাহলে সেখান থেকে একটা ভাল ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে যা আগের আক্রমণগুলোতে পাওয়া গিয়েছিল। MI5 এবং GCHQ এর ভেতরের বিশ্লেষকগণ বিভিন্ন ইন্ট্রুসিভ টেকনোলজি ব্যবহার করে আক্রমণকারীর অনলাইন একাউন্টগুলো হ্যাক করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য বের করতে পারেন যা সম্পর্কে আমরা কখনই জানতে পারব না। এছাড়া ডিটেক্টিভরা আশা করবেন, কিছু ভাল আগের পুলিসিং পদ্ধতি থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া যাবে। এগুলোর মধ্যে এন্টি-টেরোরিস্ট হটলাইনে কোন এনোনিমাস কল বা কোন লোকাল অফিসারকে দেয়া আক্রমণকারীর প্রতিবেশীর নিরব বয়ানও থাকতে পারে।
তদন্তকারীদের হাতে অনেক দীর্ঘ সময় রয়েছে। রাজধানীর বাইরে মেট্রোপলিটান পুলিসও এবিষয়ে কাজ করতে পারে।
শহরের রাস্তাগুলোতে আরও বেশি অস্ত্রধারী পুলিস থাকবে, সেই সাথে জনগণকে নিশ্চিত করতে আরও বেশি বিট পেট্রল যুক্ত হবে (টহলদারী পুলিস)। সেই সাথে সকলের দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি এবং হেট-ক্রাইম ব্যাকলাশের জন্য নজরদারি আরও বৃদ্ধি করতে হবে।
আরেকটি চূড়ান্ত প্রশ্ন রয়েছে। ওয়েস্টমিনস্টার প্যালেসের চারপাশে একটি স্টিলের রিং আছে কিন্তু আক্রমণকারী তবুও নিউ প্যালেস ইয়ার্ডের গেট দিয়ে (যা বিগ বেনের নিচেই অবস্থিত) পার্লামেন্ট গ্রাউন্ডে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। পার্লামেন্ট গ্রাউন্ডের প্রবেশপথ অস্ত্রবাহী রক্ষীদের দ্বারা সুরক্ষিত হয়, কিন্তু পার্লামেন্টের অন্যান্য অংশে সেরকম সুরক্ষাব্যবস্থা নেই। প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রবেশপথটি সঠিকভাবে রক্ষা করা হয়েছিল কিনা, কিন্তু আক্রমণের পরিকল্পনার প্রকৃতি দেখে মনে হয় না এটা তাকে চেষ্টা করা থেকে আটকাতে পারত।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন