বাঙালীর ইগো - অনলাইন ভার্শান

(অনুসন্ধানী আবাহন)

অনলাইন কমিউনিটি খুব বেশিদিন চিনি না। ২০০৯ সালের আগে পাবলিক ফোরাম সম্পর্কে প্রোফেশনাল ছাড়া আর কোন আগ্রহও ছিলো না। সোশাল নেটওয়ার্ক যে শুধুই টেকনিকাল ওয়েবসাইট নয়, এখানে রিয়েল পিপল, তাদের রিয়েল গিয়ানজাম, এ একেবারেই ধারণা ছিলো না। ভালোই ছিলাম একরকম হয়তো।

এরপরে কি যেন এক কারণে বুঝতে এলাম পাবলিক ফোরাম কাকে বলে। এবং একেবারে শুরুতেই হাতে পড়লো বাংলাদেশী, বাংলা ফোরাম। বাঙালীর ফোরাম। আশ্চর্যজনকভাবে দেখলাম, বাঙালী অনলাইনেও সেই ঝগড়াঝাটিই করে যাচ্ছে। শুধু করে যাচ্ছে তাই না , এক না পারলে দল ধরে লোক ডেকে এনে ঝগড়া করছে। দুপক্ষই লোক ডাকছে। তর্ক হোক বা বিতর্ক, মতবাদ হোক বা মতভেদ, ঝগড়া বাঙালীর চাইই চাই। তাও একা করবে না, দাদা বা দল ডেকে আনবেই। বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবাংলার ফোরাম এ এলাম, শুধু মানুষের ধরণেই যা পার্থক্য, আচরণে সেই টিপিকাল বাঙালী

এবং জানলাম, সকলের সেরা অনুভুতি, ইগো। নারী পুরুষ নির্বিশেষে, সকলেই নিজের ইগো স্ট্রোকিং করে। ইগো ব্যাপারটাই একদম পুরুষাঙ্গের মত, উত্থিত হতে কোন কারণই লাগে না, কোন স্টিমুলেশন লাগে না। আমার হলো না, অমুক বেশি ফুটেজ পেল, অমুক অমুকটা করলো, অমুক অমুকটা বললো, অমুক অমুকটা বললো/করলো না, এমন কত শত সহস্র কারণে, খাড়া হওয়া বাঁড়ার মত খাড়া হওয়া ইগো দেখি। অযাচিত লিঙ্গাঘাতের মত করে হরহামেশা শিকার হই ইগোর আঘাতের। আঘাতেই ইগো খ্যান্ত নয়, বীর্যপাতের মত ইগোরও অর্গাজম চাই। "মলেস্টেড এন্ড রেপড বাই ইগো" প্রায় প্রতিনিয়তই ঘটে চলছে। গড়ে দিনে একবার করে আমিই শিকার হচ্ছি

এমনিতেই ভার্চুয়াল দুনিয়া হেজিমনিক, প্রায় বাস্তবতা বিবর্জিত। তাও যখন সেখানে বাঙালী স্কোর সেটেল এর বাওয়াল এবং খিঁচতে থাকা ইগো নিয়েই এত ব্যস্ত, ভাবনা হয়, অনলাইন থেকে আদৌ কি কখনো কোন সত্যিকারের বেনিফিট পাবো আমরা? নাকি এভাবেই ঝগড়া এবং ইগোর অর্গাজম দেখেই বাঙালীর অনলাইন জীবনকাল কেটে যাবে।

মন্তব্যসমূহ