ধর্ষন ও ধর্ষক

(সৌরভ খন্দকার)

যেদেশের মায়েরা শুধুমাত্র লোকলজ্জার ভয়ে মেয়ের ধর্ষণকে মেনে নেয়, রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে দেখেও চক্ষুলজ্জায় চুপ থেকে যায়, দিনের পর দিন নিজের মেয়েকে ধর্ষকের হাতে তুলে দিয়ে আড়ালে চোখের জল ফেলে- সেদেশের নাম আর কিছু নয় বাংলাদেশ! ধর্ষণ যে দেশের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার সেদেশ আপনারই প্রিয় সোনার বাংলা-জন্মভূমি-মাতৃভূমি স্বদেশ।
.
যে মানুষগুলো রাস্তায় ছুটে-চলা নারীর কুচযুগে(স্তন) পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে নানা অসভ্য চিন্তা করে, কয়েক সেকেন্ডে বিছানায় নিয়ে ধর্ষণ করে ফেলতে পারে, মাংসপিণ্ডের সাইজ বলে দিতে পারে- তাঁরাও আর কেউ নয় বাঙালি। তাঁরা আসলে কোন বাঙালি ভেবেছেন কখনো? হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন! ৯২% মুসলমানের দেশ হিসেবে চোখ বন্ধ করেই বলে দেয়া যায়, 'তাঁরা অবশ্যই মুসলমান বাঙালি।'
.
কে বলেছে যীশুই কেবল ঈশ্বরের পুত্র? মেরীই কি কেবল ঐশ্বরিকভাবে অন্তঃসত্ত্বা হতে পারে? রাস্তায় পরে থাকা পাগলীটাও যে আজ অন্তঃসত্ত্বা। দেখেছেন নিশ্চই? পাগলীটি অবশ্যই কোনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি। তবে শুনেছি, রাতের আঁধারে পুরুষগুলি নরপিশাচে পরিণত হয়। নারীর গন্ধ পেলে নাকি মুখোশের আড়ালে আসল পুরুষত্ব জ্বলজ্বল করে হঠাৎ ছুটে চলে উল্কাপিণ্ডের মতো। "শালারা একেকটা মাগীবাজ" বাক্যটি আমার ভেবে মনঃক্ষুণ্ণ হবার কারণ নেই। বাক্যটিতে মিশে আছে এক ফুল বিক্রেতার কিছু ক্ষুব্ধ-স্বর, ধর্ষণের হাহাকার, ভয় ও আর্তনাদের রূপক গল্প। জানেন পাকিস্তানি শুঁয়োরেরবাচ্চাগুলো আর মুখোশধারী মাগীবাজদের মধ্যে তেমন বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই? শুধুমাত্র পাকিরবাচ্চারা প্রকাশ্যে নারীদের উপর নির্যাতন-ধর্ষণ করে গেছে আর মাগীবাজগুলো রাতের আঁধারে করছে। ভেবে খুশি হবেন! এঁরা আপনার-আমার কাছের মানুষগুলির মধ্যেই মুখোশ পড়ে আছে। তবে ভয় পাবেন না! আপনাকেও ধর্ষিত হবে একদিন। কিছু সময়ের অপেক্ষা।


আমি জানিনা, ক্লাস টু-থ্রি'তে পড়ুয়া বাচ্চার যোনী কেমন করে আকর্ষনীয় হয়? শুধু আকর্ষণ বললেও পরিপূর্ণা হচ্ছে না। মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বা ব্ল্যাকহোলের আকর্ষণের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কারন ব্ল্যাকহোল থকে যেমন গতিরাজ আলোই রেহাই পায় না তেমনি ধর্ষকের হাতে কোনো নারীই ছাড় পায় না। মানুষ কতোটা নেশাগ্রস্ত হলে যোনীপথে ধারালো ব্লেড চালিয়ে ধর্ষণ করে?ভালোবাসার মানুষটিকে হারানোর থেকেও এধরনের খবর অধিক ক্ষতবিক্ষত হোই মাঝেমধ্যে। এঁরাও নাকি মানুষ? মানুষকে বৈজ্ঞানিক ভাষায়' হোমো স্যাপিয়েন্স বা বুদ্ধিমান মানুষ' বলে। তবে আমরা কী শুধুই মানুষ নাকি মনুষ্যত্বময় কোনো বুদ্ধিমান মানুষ? পশু থেকে বিবর্তীত হয়েছি, বুদ্ধিতে শ্রেষ্ঠত্বও অর্জন করেছি তবে মনের মাঝে সেই আদিম পশুত্বটাকে পোষে যাচ্ছি মুখোশের আড়ালে। এ পুশুত্ব দুর হয়নি হবেও না কোনদিন। 'মনুষ্যত্ব' কেবল একটি রূপক শব্দ যা অভিধানেই মানায় মানুষের অন্তরে নয়।

ধন্যবাদ

মন্তব্যসমূহ