মহালয়া থেকে দশমীর গল্প

(কুজন চৌধুরী)

শহরের কোলাহল ছেড়ে শরতের শুভ্র সকালে
মামা বাড়ীতে যাবো পুজোর প্রাক্কালে
শিশির ছোঁয়াব নিকোটিন অধরে
কাশফুল বনে হাঁটব একা মন ভরে ।

মহালয়ার প্রাতে শিউলি তুলতে গিয়ে
দেখেছিনু তোমায় দূর থেকে নিশিরে দুলতে
শুভ্র পরী মরতে এলো কোন পথ দিয়ে
ফুল তোলা ভুলে অবাক নয়নে গেঁথেছি মনেতে ।
প্রথমার দিনে দেখেছি মন ভরে গভীর আরাধনায়
দেবীর সামনে আরেক দেবী কিভাবে এলো দুনিয়ায়
তোমার শুভ্রতায় মণ সতেজ হয়েছিল
অজানা ঢেউয়ে এ রিদয় দুলেছিল ।
দ্বিতীয়ার সকালে নীরবে দেখেছি
আলপনা এঁকে দেবীকে সাজাতে
মনে মনে সেই আলপনা মেখেছি
নিজের অজান্তে আমি ব্যাস্ত রাঙাতে ।
তৃতীয়ার প্রথম প্রহরে
কবরীতে শিউলি জড়ায়ে
টোল ভরা গালে লুকায়ে হাসিরে
হঠাৎ কোথায় গেলে হারায়ে ।
চতুর্থীতে স্বপ্নের ছোঁয়া এঁকেছিলে আঁখিতে
সব সুন্দর মেখেছিলে অচেনা দৃষ্টিতে
পাগলের মত শুধু সে ছবি দেখেছি
মনের অজান্তে সে ছবি নীরালায় এঁকেছি ।
পঞ্চমীতে গ্রীবায় দোলায়ে বেলি ফুল
আনমনে হেঁটেছিলে নৈবেদ্য দিতে আকূল
দেবতা নিয়েছিল হেসে সেই দান
নিজেকে নিজে লুকায়ে দেখেছি ভরে প্রাণ ।
ষষ্ঠীতে রাঙা করেছিলে পা দু'খানি
আলতায় ভরিয়ে অপরুপ দোলানী
জীবনের সব দোলা দেখেছিনু সেইখানে
ভুল করে দিয়েছিনু ফুল অন্যখানে।
সপ্তমীতে মন কাড়া ঢাকের সাথে
মৃদু পায়ে নেচেছিলে স্বপ্নিল প্রাতে
পৃথিবীর সব লীলা ছিল ওই মুদ্রায়
হারিয়েছি নীরবে নিজেকে সহসায়।
অষ্টমীতে শরতের জোয়ার দেখেছি চিবুকে
অপরুপ নিজেকে ছড়ালে নির্জন এই বুকে
জগতের সব সুন্দর দেখেছি ওই মুখে
শব্দে শব্দে কবিতারা খেলেছিল তোমাতে ঝুঁকে ।
নবমীর প্রাতে পূজো সেরে
যবে ফিরে যাচ্ছিলে ঘরে
অবাক নয়নে প্রথম জানতে চাইলে
ক্যামন আছি আমি প্রসাদ বাড়ায়ে দিলে ।
দশমীর বিসর্জন দিতে মন্দিরের গেটে
স্নিগ্ধ অবয়ব যাচ্ছিলে ভিরু পায়ে হেটে
হাতে রেখে হাত শুধালে ক্যামন লেগেছে এই তিথি
অবাক হয়ে দেখেছিল নির্জন তরুলতা ছায়া বিথী ।
সেই পুজো জীবনে আসেনি আর
তুমিহীন কেটেছে বছরের পর বছর
আজো খুঁজে ফিরি সেই চকিত মায়াবী নয়ন
পাইনি আজো খুঁজি সারাক্ষন আমি দৃষ্টিহীন।।

মন্তব্যসমূহ